উদ্যোক্তা হতে দেখুন সিনেমাগুলো

উদ্যোক্তা হতে দেখুন সিনেমাগুলো

স্টিভ জবসের ‘জবস’ থেকে ‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’; একটি সিনেমা তৈরিতে এত বেশি গবেষণা থাকে যে, ওটাই হতে পারে কোনো না কোনো উদ্যোক্তার জন্য দারুণ একটি কোর্স। বিজনেস ক্যারিয়ার গড়তে এমনই কিছু অনুপ্রেরণাদায়ী সিনেমার কথা জানাচ্ছেন ফয়সল আবদুল্লাহ

স্টার্টাপ ডট কম (২০০১)

২২ বছর আগে প্রামাণ্যচিত্রটি যখন মুক্তি পায় তখন স্টার্টাট আপ শব্দটি অতটা পরিচিত হয়নি। তবে এটি এখনো নতুন উদ্যোক্তাদের পথ দেখাতে পারে। স্টার্টাট আপ শুরু করতে কী করতে হবে আর কী করা যাবে না, সেটাই দেখানো হয়েছে। অর্থ, লোভ ও ক্ষমতা যে আপনার ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলোতেও প্রভাব ফেলে সেটাই এ ছবির মুখ্য বিষয়। আর ট্যাগলাইনটা হলো, ‘বন্ধুরা কখনোই ভালো ব্যবসায়িক পার্টনার হয় না’।

দ্য সোশাল নেটওয়ার্ক (২০১০)

সবাই জানে ফেসবুক তৈরির গল্প নিয়ে এ ছবি। তবে মূল বার্তা কিন্তু এটা নয়। ফেসবুকের মতো একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পেছনে শূন্য হাতে কী করে জীবনের ব্যস্ততম সময়টা পার করতে হয়, সেটাই দেখানো হয়েছে। অতিকায় স্বপ্নের পেছনকার অধ্যবসায়, শ্রম আর লেগে থাকার প্রক্রিয়া শেখা যাবে এ সিনেমা থেকে।

জয় (২০১৫)

মূল কথাটা হলো ‘নিজের ব্যবসায় উপদেষ্টা হিসেবে পরিবারের বাইরের কাউকে নিয়োগ দিন’। ছবির মূল চরিত্র জয়কে নিজের পরিবারকে ব্যবসায়ের উপদেষ্টা বানিয়ে যেসব সমস্যা পোহাতে হয়েছে সেটাই দেখানো হয়েছে এতে। কারণ কাছের মানুষজন সবসময় কঠোর-কঠিন বস্তুনিষ্ঠ সিদ্ধান্তটা নিতে পারে না। ব্যবসায় সফলতার জন্য পরিবারের চাইতে পেশাদারকে গুরুত্ব দিতে বলেছেন ছবিটির নির্মাতা। দেখানো হয়েছে, আবেগের কারণে অনেক সময় সেরা ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তটা আর নেওয়া হয়ে ওঠে না।

ওয়াল স্ট্রিট (১৯৮৭)

সেলস নিয়ে যারা ক্যারিয়ার গড়তে চান, তারা কয়েকবার দেখে নিতে পারেন ছবিটি। সেলস সংক্রান্ত যে অগণিত সংলাপ এখানে ব্যবহার করা হয়েছে, তার জন্য চিত্রনাট্যকারকে খাটতে হয়েছে গাধার খাটুনি। সফলতার জন্য যে একজন নব্য ব্যবসায়ীকে কতটা খ্যাপাটে হতে হয় আর কী কী বলতে হয় সেসবই পাবেন এতে। মূল বার্তাটা হলো, অতিলোভ ভালো না হোক, ব্যবসায় সাফল্য পেতে সামান্য লোভ থাকতেই হবে।

জবস (২০১৩)

স্টিভ জবসের জীবনীভিত্তিক ছবিটি উদ্যোক্তাদের দেখতেই হবে। প্রতিটি জিনিসের সফলতার জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সময় ও ধৈর্যের পরীক্ষা থাকে তা লুকিয়ে আছে এ সিনেমার প্রতি পরতে। অ্যাপলের যে সফলতা পেতে লেগেছিল গুনে গুনে ২০ বছর।

মানিবল (২০১১)

এ ছবির মূলমন্ত্রটা হলো, আপনার ব্যবসায়িক প্রতিযোগী যখন ভুল করে চলেছে, তখন তাকে একদমই ঘাঁটাবেন না। সৃজনশীল নেতৃত্বের গুণ পেতে হলে যা যা থাকা চাই সেসবের একটা লেসন পাবেন এ ছবিতে।

অফিস স্পেস (১৯৯৯)

ক্ল্যাসিকের মর্যাদা পাওয়া ছবিটিতে দেখানো হয়েছে একজন কর্মী যদি তার কাজকে ভালো না বাসে বা আগ্রহ না পায় তবে কী কী ঘটতে পারে। বলা হয় বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার উদ্যোক্তাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে এ ছবি। ছোটখাটো কর্মীকেও তার নিজের জগতে ক্ষমতায়ন করে যে বড় কিছু ঘটিয়ে দেওয়া যায় সেটা প্রমাণ করেছে এ ছবি।

রকেট সিং : সেলসম্যান অব দ্য ইয়ার (২০০৯)

বিক্রয় প্রতিনিধিদের জন্য আরেকটি ‘অবশ্যই দেখতে হবে’ ঘরানার ছবি। সেলস থেকে শুরু করে করপোরেট জীবন, ক্রেতাদের সঙ্গে নেটওয়ার্ক তৈরির কৌশল তো আছেই, নিয়োগকর্তারা কী করে স্মার্ট উপায়ে তাদের কর্মী নিয়োগ দিতে পারেন সেই টিপসও মিলবে এতে।

জেরি ম্যাগোয়ার (১৯৯৬)

পুরোনো হলেও ব্যবসায়িক আবেদন ফুরায়নি এ ছবির। ক্রেতার সন্তুষ্টি যে মাঝে মাঝে লাভের চেয়ে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায় তা টের পাওয়া যাবে এতে। আবার ক্রেতার জীবনমানের উন্নতি ঘটানোর মাধ্যমে তার আস্থা অর্জন করে যে দীর্ঘমেয়াদে সফল প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানো সম্ভব সেটাও এ ছবির মূল বক্তব্য।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
logo
kalbela.com