খাবারের অভাবে দিন কাটছে আফগানদের

অনেকে অভাবের কারণে তাদের মেয়েদের বিক্রি করে দিচ্ছেন। কিডনি বিক্রি করে সেই অর্থ দিয়ে যতদিন পারা যায় সংসার চালাচ্ছেন।
খাবারের অভাবে দিন কাটছে আফগানদের

তালেবান শাসনাধীন আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। প্রয়োজন মেটাতে, বিশেষ করে দুই বেলা খাবারের জন্য ঘরের আসবাব বিক্রি করে দিচ্ছেন তারা। অনেকে অভাবের কারণে তাদের মেয়েদের বিক্রি করে দিচ্ছেন। আবার অনেকে কিডনি বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন। এরকমই এক মানবিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশটির সাধারণ মানুষ। খবর বিবিসির।

২০২১ সালের আগস্টে তালেবান পুনরায় ক্ষমতা দখল করার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এখন নিজেদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। শীতের আগে ঘর উষ্ণ রাখার সরঞ্জাম কিনতে ঘরের অন্যান্য জিনিসপত্র বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। অনেকে অভাবের কারণে তাদের মেয়েদের বিক্রি করে দিচ্ছেন। কিডনি বিক্রি করে সেই অর্থ দিয়ে যতদিন পারা যায় সংসার চালাচ্ছেন। কয়েকজন বাবা-মা আক্ষেপ প্রকাশ করে বিবিসিকে বলেন, আমাদের ঘরে কোনো খাবার নেই। বাচ্চারা সারা রাত কাঁদে। তাদের কান্না থামাতে ফার্মেসিতে গিয়ে তন্দ্রাচ্ছন্ন ওষুধ নিয়ে আসি। সেই ওষুধ বাচ্চার মুখে দিলে তারা ঘুমিয়ে যায়। এই বলে বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। আন্তর্জাতিক মানবিক সাহায্যকারী সংস্থা রেড ক্রসের অপারেশন্স ডিরেক্টর মার্টিন শুপ জানিয়েছেন, মধ্যবিত্ত আফগান পরিবারগুলো মৌলিক খাদ্য চাহিদার মাত্র ৮২ ভাগ পূরণ করতে সক্ষম। তিনি আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রয়োজন মেটাতে আমরা দেখছি আরও আফগান জিনিসপত্র বিক্রি করে দিচ্ছেন। তাদের ঘর উষ্ণ রাখার সরঞ্জামের সঙ্গে বেশি দামে খাবার ও অন্যান্য পণ্য কিনতে হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটিতে প্রয়োজনীয় সাহায্য সময়মতো পৌঁছাচ্ছে না। খাদ্য সহায়তার ওপর যেন কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা না থাকে সেটি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

সৈয়দ মাসুদ নামে আফগানিস্তানের একজন অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘ব্যাংক এবং প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের মাধ্যমে এই অর্থনৈতিক দুরবস্থা কাটানো সম্ভব।’ মীর সিকিব মীর নামে অন্য একজন অর্থনীতিবিদ বলেন, আফগানিস্তান ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাইরের দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করা যাচ্ছে না, যা অর্থনীতিকে আরও খারাপ করে দিচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে যেসব মানবিক সংস্থা কাজ করছে তারাও ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করতে পারছে না। এ বিষয়টি মানবিক সাহায্যে প্রভাব ফেলছে। আফগানিস্তানের দোকানি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাধারণ মানুষ শুধু নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনছেন। এর বাইরে কোনো কিছু কিনছেন না। তাদের আসলে সেই ক্রয়ক্ষমতাই নেই। এর আগে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছিল, আফগানিস্তানের অর্ধেক মানুষ মানবিক সাহায্যের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। দেশটির প্রতি দুজনের মধ্যে একজন মানুষ জানেন না, এক বেলা খাওয়ার পর পরের বেলা খাবার পাবেন কিনা। এদিকে ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট তালেবান পুনরায় ক্ষমতা দখলের পর আফগানিস্তানের বেসরকারি খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেচা-বিক্রি ও ব্যবসা কমে যাওয়ায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রায় অর্ধেক কর্মীকে ছাঁটাই করেছে, যা বেকারত্ব বৃদ্ধিসহ পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com