কবি সরদার ফারুক এর ১০টি কবিতা দীপালি অপেরা’র পাণ্ডুলিপি থেকে

কালবেলা এর ছবি

আসছে একুশে বই মেলায় কবি সরদার ফারুকের কাব্য গ্রন্থ 'দীপালি অপেরা' প্রকাশিত হবে। পাণ্ডুলিপি থেকে এখানে ১০টি কবিতা আপনাদের জন্য...

দীপালি অপেরা প্রচ্ছদ 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

রাত

এখনো গলছে রাত, টের পাই
নীল আলো কাঁপে
ভাইয়ের কবরে যেতে অন্ধকার
ঝোঁপঝাড়, বটের শেকড়

হ্যাজাকের আলো জ্বেলে একবার
মাঠভরা নাচ
জিংক অক্সাইড  মেখে
অনেকেই পরী সেজেছিলো

আধখানা মোম, কাছে গেলে
চুলপোড়া গন্ধ পাওয়া যাবে

 

বয়সের বাধা নেই

বয়সের বাধা নেই
প্রমাণ হিসাবে তবে কররেখা দেখা যেতে পারে—
তটভূমি ভেসে গেছে জোয়ারের স্রোতে
ব্রিজের পিলারে জলচিহ্ন দেখা যায়
সেও তো স্মারক!

আনন্দস্নানের দিন এখনও কি আছে?
হাতের মুঠোয় পাবে কোমলতা, নিশাদল,
অঙ্গারের গুঁড়ো?

 

সন্ধ্যা হয়

অধীত বিদ্যার দিন ম্লান
মক্ষিকার গুঞ্জরণ চুপ
কেবল স্পন্দনটুকু— কোথা থেকে আসে?

সন্ধ্যা হয়, রঙগুলো নেভে
কাগজের দুই পিঠে কে এঁকেছে রাত্রিচর পাখি!

 

পড়ালেখা

গাছের বাকলে পড়ি কাঠঠোকরার
ভাষা, কালো মেঘেদের দিন
 
পুকুরের ঘাটে পড়ি
তোমার পায়ের ছাপ, নতুন শাড়ির
ভেজা দাগ, ভুল করে ফেলে যাওয়া
চিরুণির অপার আহ্লাদ

ঘুঘুচরা ভিটে জুড়ে লিখি
ভালোবাসা, চিনিগুড়া ধান

 

মিলিত হয়েছি

মিলিত হয়েছি ক্রুশকাঠে
লোহার শলাকা ছাড়া কী করে এমন
নিবিড়তা হবে?

জড়িত রয়েছি এক গভীর পতনে
প্রপাতের শব্দ শোনা যায়

দুধসাদা জল ঘন বাষ্পের আকারে
ব্যাপ্ত হয়ে আছে

অচেনা প্রবাসে
শবাধারে প্রজাপতি ওড়ে

 

অভিশাপ

মোহর পাওনা যার
তাকে কেউ দিওনা জহর
নাপাক জবানে
পড়ে যেন কঠিন কহর
কাকে এই তাম্রমূদ্রা দাও,
ঘৃণার নহর?

অভিশাপে পুড়ে যাবে বোকার শহর

 

রাখাল

কখনো গভীর রাতে পাশের বাড়িটা
আমার ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়ে, অশ্রাব্য চিৎকার
অনুচ্চ বিলাপ, বোতল ভাঙার শব্দ

রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে ঘুমন্ত শহর দেখি, অনাথ শিশুর
মুখে বিলবোর্ড থেকে গলে পড়া আলো
পাহারাদারের হাতে লাঠি

একা একা বলি
এই অসুখী শহর, দুঃস্থ লালসার
আমি কেউ নই

পথভ্রষ্ট দরিদ্র রাখাল
হারানো ভেড়ার পাল খুঁজতে এসেছি

 

দৈবের ঘোড়া

এখনো দৈবের ঘোড়া লোকালয়ে আসে
পাঁচমাত্রার খুরের শব্দ জেগে থাকে সারারাত।

এখনো নিয়ম ভেঙে নিভৃত মন্দিরে
অগোচরে ঢুকে যায় রূপের ভিখিরি
বলে, ‘বর দাও, আমিও নৃপতি হবো’

দেবীর চোখের রত্ন কারা যেন খুলে নিয়ে গেছে
অক্ষিকোটরের দিকে ফিরে তাকালেই হাহাকার
সাপের জিভের মতো চেরা অন্ধকার।

 

মায়ার দোকান

শিশু সাপ কার কাছে ফণা তোলা শেখে
পিঁপড়েরা বিষাক্ত কামড়?
কোথা থেকে আসে এতো ধারালো পাথর?

যেখানেই যাই
কাঁটার মুকুটে ভরা মায়ার দোকান

 

বন্দনা

দোহাই তোমার কালু রায়
দোহাই মা বনবিবি, বনে আসি
ভাতের জোগাড়ে

দোহাই মনসা দেবী,
এঁকে-বেঁকে ঘোরে ফেরে, রাতে বলি লতা
ভয়ে ভয়ে গোলপাতা কাটি

হরিণ শিশুর পায়ে জোঁক
কাদা জলে রক্ত মিশে যায়

ভোট: 
Average: 10 (3 votes)