অপার্থিব ভাটিবেলা

Nuzmus Sadat Sompod এর ছবি

আমি গ্রামে থাকি। আমাদের গ্রামের নাম লক্ষিকোলা। সাহিত্যে উল্লেখিত বেশিরভাগ গ্রামের পাশ দিয়ে একটা নদী বয়ে যায়। খুব দুঃখজনক হলেও সত্যি আমাদের গ্রামের পাশে কোন নদী নেয়। তাই আমরা নদী সম্পর্কিত অসাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্য হতে বঞ্চিত। নদী না থাকুক আমাদের গ্রামের পাশ দিয়ে একটা খাল বয়ে গেছে। আঞ্চলিক ভাষায় আমরা একে বলি দহ। এই দহটা যখন গ্রামের শেষ সীমানায় অবস্থিত তখন এর নাম নতুন দহ। আমার মতে খুবই অসাধারণ নাম "নতুন দহ"।দহের আরেকটা নাম আছে। এটা যখন আমাদের গ্রামের মাঝখান দিয়ে চলে গেছে তখন এর নাম ঝিনাইগাঢ়ী দহ। এই নামটাও সুন্দর। আমার মনে হয় এই নামকরণের পেছনে কোন কারণ থাকতে পারে। এলাকায় যারা প্রবীণ তাদের জিজ্ঞেস করে আমি নামকরণের পেছনের কারণ জানতে পারিনি। হয়তো ঐতিহাসিক কোন কারণে কোন নামকরণ না তাই কেউ জানেনা। হয়তো অনেক আগে থেকেই এই নাম চলে আসছে ফলে এই নামের পেছনের লার্নিং কেউ বলতে পারেনা। তারপরেও আমার জানার ইচ্ছা ক্ষান্ত হয়নি। নিজে নিজেই একটা ব্যাখ্যা তৈরি করেছি। দহের নাম ঝিনাইগাঢ়ী দহ। সহজাত হিসেবেই নামের সাথে দহ থাকবে। নামের প্রথম অংশ ঝিনাই এসেছে ঝিনুক থেকে। দহের প্রচুর পরিমাণে ঝিনুক পাওয়া যায় তাই ঝিনাই। ঝিনুককে স্থানীয় ভাষায় ঝিনাইদহের বলা হয়। ঝিনুকের এই প্রাচুর্য়ের কারনেই নামের দ্বিতীয়াংশ গাঢ়ী এসেছে। স্থানীয় ভাষায় প্রাচুর্যতা বুঝাতে ঘাঢ়ী ব্যাবহৃত হয়। তো দুই অংশ মিলে যা দাড়ায় তা হল ঝিনাই- ঘাঢ়ী। পরবর্তীতে লোকমুখে বিকৃত হয়ে ঝিনাইগঢ়ীতে এসেছে। "ঝিনাইগাঢ়ী" অর্থাৎ ঝিনুকের প্রাচুর্যতা । এখন শীতকাল। গ্রামের শীতকাল খুবই উপভোগ্য একটা জিনিস। গ্রামে শীতের সকাল শুরু হয় এক রাশ স্থবিরতায় ও নিস্তব্ধতা নিয়ে। যদিও আমাদের এখানে এরকম ঘটেনা। আমাদের গ্রামটা শিল্পোন্নত গ্রাম। তাই আমাদের সকাল শুরু হয় কারখানার যান্ত্রিক শব্দের মাঝ দিয়ে। আজ কোন এক কারনে সারাদিন বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল,ফলে কারখানা বন্ধ ছিল। তাই আজকে আমাদের সকালটা শীতের সকালের মতোই শুরু হয়েছে। কুয়াশামোড়া হয়তো ছিলনা,কিন্তু শীতের যে আমেজটা অনুভুতিতে নাড়া দেয় সেটা ছিল ।

আমাদের লক্ষিকোলাবাসির একটা ভাল দিক হল আমরা সবাই ক্রীড়ামোদী। যেকোন মওসুমি খেলা আমাদের এখানে নিয়মিত খেলা হবেনা এটা প্রায় অবিশ্বাস্য। ক্রিকেট, ফুটবল, ক্যারম,ব্যাডমিন্টন, ডাংগুলি, গোল্লাছুট, গুটি থেকে শুরু করে অধিকাংশ গ্রামীণ খেলায় আমাদের এখানে খেলা হয়। এখন যেহেতু শীতকাল তাই আমরা নিয়মিত ব্যাডমিন্টন খেলি। আজকে কোন এক অনিবার্য কারনে আমাদের খেলা হলনা। খেলোয়াড়রা সবাই উপস্তিত কিন্তু খেলা হলনা। কি আর করা তাই সবাই মিলে ঠিক করলাম নতুনদহ ব্রিজে যাব। বিকেলে ব্যাডমিন্টন খেলার কারনে বিকেলের দিকে কলেজ -ব্রিজ এদিকে যাওয়াই হয়না। সবাই রাজি আমরা যাচ্ছি। বাজারের ভিতর দিয়ে যাওয়ার সময় আমাদের কিছু সংগী দলছুট হয়ে গেল। দুপুরের পর পানির লাইন ঠিক করতে গিয়ে লিঙ্কন শক খেয়ে পানিতে পড়ে গিয়েছিল। লিঙ্কনের পকেটে মোবাইল ছিল,তাই সেটা ভিজে গেছে। পারভেজ লিঙ্কনের কাছে চলে গেল। সাব্বিরের কাজ ছিল, তাই সেও চলে গেল। আমরা থাকলাম তিনজন রাতুল,নিষাদ এবং আমি। তিন সংখ্যার একটা আলাদা মহাত্ম আছে। ইংরেজীতে লাকি সেভেন বলা হলেও আপনাকে যদি কোন সংখ্যা চিন্তা করতে বলা হয় এক থেকে দশের মাঝে তাহলে আপনি প্রথমেই তিন চিন্তা করবেন। তাছাড়া তালাকের বেলায় তিনতালাক ব্যাবহৃত হয়,কবুলের বেলায়ও একই নিয়ম। কাউকে কোন কিছু ওয়াদা করতেও তিন সত্যি বলতে হয়। হয়তোবা তিন সংখ্যার মহাত্মের কারনেই আমাদের বিকেলটা হয়ে উঠেছিল অপার্থিব।

বিকেলে ব্রিজের সবচেয়ে ভাল দিক হল সুর্যাস্ত। কারন ব্রিজ থেকে দহ,দহের পরে মাঠ, মাঠের পরে দুরের গ্রাম, তারপরেই সূর্যাস্তের রক্তিম আভা। পুরো দৃশ্যের ছায়া পড়ে আবার দহের পানিতে। যেন দহের নিচে আরেক জগৎ। এ দৃশ্য দেখার পরে যার মনে পুলক লাগবেনা, মনে করতে হবে তার মানসিক সমস্যা আছে। আমার আবার ছবি তোলার বাতিক আছে তাই এ দৃশ্য দেখার পর ছবি না তুলে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। সবাই যখন মুগ্ধ হয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখছে তখন আমি কয়েকটা ছবি তুলে ফেললাম। সবাইকে ছবিগুলো দেখালাম। ছবিগুলো সত্যিই খুব সুন্দর হয়েছিল। ছবি সুন্দর হওয়ার জন্য যতটা না আমি দায়ী তারচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে ছবির থিমের। দর্শনীয় বস্তু যতই সুন্দর হোক বা কেন সারাক্ষণ সেটা দেখা সম্ভব না। তাই আমরা আর বেশিক্ষন এটা নিয়ে থাকলাম না। কিন্তু তারপরেও আমাদের মনের ভিতরে যে অসাধারন পুলকের অবির্ভাব ঘটেছিল তাতে ভাটা পরেনি।

সকল ব্রিজের একটা ভাল দিক রয়েছে। আর সেটা হল প্রত্যেকটা ব্রিজ থেকেই চারটা দিক সমান ভাবে দেখা যায়। ব্রিজের দক্ষিণ -পুর্ব দিক তাকালে মাঠের পর রৌহা গ্রাম দেখা যায়। ঐদিকে দহটাও ধিরে ধিরে সরু হয়ে ঝিনাইগাঢ়ী ব্রিজের দিকে এগিয়ে গেছে। একদিকের দৃশ্য সুর্যাস্তের দৃশ্যের মত মোহময় না হলেও অতুলনীয় বলা যায়। অতুলনীয় বলার পেছনে একটা কারন আছে, এ মহাবিশ্বের কোন কিছুর সাথেই কোন কিছুর পুরোপুরি মিল খুজে পাওয়া সম্ভব নয়। কারন যেকোনো জিনিস তার নিজের মত আলাদা। যদিও এটা শরতকাল না কিন্তু কোন এক অজানা কারনে আকাশে ছড়িয়ে -ছিটিয়ে ছিল তুলার মত মেঘ। সবমিলিয়ে আকাশের রং ছিল শুভ্রনীল নামের অপার্থিব রঙ্গের। আকাশের এই রূপ দর্শনীয় হলেও আমাদের নজর কাড়ল অন্য একটা জিনিস এবং তা হল দহের পানি। গল্পে উপন্যাসে একটা শব্দ অনেকবার পেয়েছি। অতি স্বচ্ছ পানির উদাহরন দিতে গিয়ে ব্যাবহৃত হয় কাকচক্ষু পানি। কাক পাখিটি কর্কশ হলেও তার চোখ দিবালোকের মতই স্বচ্ছ। কাকচক্ষুর ন্যায় স্বচ্ছ পানি দেখার সৌভাগ্য আমার আগে কখনও হয়নি। বয় পড়ার সাথে সাথে মানুষের ত্রিনয়ন অর্থাৎ কল্পনার চোখেই দেখে গেছি। কাকচক্ষু স্বচ্ছ পানি নিয়ে লেখকদের এতো উচ্ছাসের কারন এইবার বুঝতে পারলাম। কাকচক্ষু স্বচ্ছ পানি আসলেই দেখার মত বস্তু। এ দৃশ্য দেখে বিমোহিত না হওয়া সম্ভব নয়। দহের পানি স্বাভাবিকভাবেই ছিল নিস্তরঙ্গ। পুরো দহটাকে একটা আয়নার মত লাগছিল। সেই আয়নারূপ পানির ভেতর শুভ্রনীল অপরূপ প্রতিবিম্বের দৃশ্য ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আমাদের ঘরের আয়নার ঐপাশে যেমন একটা জগত থাকে তেমনি মনে হচ্ছিল পানির নিচে আরেক জগত রয়েছে। পানির নিচে ঐ দৃশ্যটা কে কিছুতেই বিশ্বাস হয়না যে ওটা একটা অবাস্তব বিম্ব মাত্র। পানির ওপর দিয়ে যখন কোন পাখি উড়ে যাই তখন পানিতে তার ছুটন্ত ছায়া পড়ে। যেন পানির নিচের জগতের কোন প্রানী ছুটে চলছে। এ দৃশ্য দেখার পর যদি কেউ স্বশব্দে এর প্রশংসা না করে তাহলে বুঝতে হবে সে কথা বলতেই জানে না। আমি কিছুক্ষন পরে পরেই শুধু প্রশংসা সুচিকিৎসা বাক্য ও শব্দ উচ্চারণ করে যাচ্ছিলাম। কোন অসাধারন দৃশ্য দেখার পর যেমন আমি অতি সহজেই বিমোহিত হই তেমনই আমার মোহভংগও অতি তাড়াতাড়িই ঘটে। আমিই বললাম,'চল ঐপাশে যায় এপাশেরটা অনেক দেখা হয়েছে।

এইপাশেও ঠিক একইরকম সৌন্দর্য। কিন্তু এপাশেরটা চোখ ও মনকে ততটা আকর্ষণ করতে পারছিল না। তার পেছনে অনেকগুলো কারন থাকতে পারে কিন্তু এটা কখনও চিন্তা করা যাবেনা যে এই দৃশ্যটা ততটা মোহনীয় নয়। আসলে কারনটা হচ্ছে ঐপাশেরটা দেখে আমরা এতটাই আকর্ষিত হয়েছিলাম যে তার সাথে তুলনা করা যায় এমন কোন জিনিস অন্তত ঐদিন আমাদের মুগ্ধ করতে পারতনা। এইপাশে আরেকটা জিনিস আমাদের নজর কাড়ল। এটা কোন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়,প্রকৃতির আরেক সৃষ্টি মানুষ। একটা মানুষ মাছ ধরার জন্য বসে আছে। সে সূত দিয়ে মাছ ধরছে। সূত এমনই এক শিকারের মাধ্যম যার মাধ্যমে অতি সহজেই বড় বড় মাছ ধরা যায়। প্লাস্টিকের সুতার সামনের ভাগে বড়শি বাধা থাকে। বড়শির মাথায় টোপ লাগিয়ে জলাশয়ের মাঝ বরাবর ছুড়ে ফেলা হয়। এর মাধ্যমে বিশ কেজি ওজনের মাছও ধরা যায়। লোকটা ব্রিজের নিচেই মাছ ধরার জন্য বসেছিল। আমাদের বয়সের ছেলেদের স্বভাব অনুযায়ী আমরা লোকটাকে লক্ষ্য করা শুরু করলাম। লোকটা দেখতে যে খুব হাস্যকর ছিল তা না। কিন্তু কেন যেন লোকটাকে দেখে আমরা খুব মজা পাচ্ছিলাম। লোকটাকে আমরা লক্ষ্য করছিলাম কিন্তু সে জানতে পারছিল না। কারন আমরা ব্রিজের এমন জায়গায় ছিলাম যে ঠিক ব্রিজের নিচে থেকে সেখানে দেখা সম্ভব ছিলনা। একপর্যায়ে নিষাদ বলল ,'তিনটা মাছ ধরছে মনে হয়। সে নাকি ব্যাগের ভিতরে মাছের নড়াচড়া লক্ষ্য করেছে। আমরা এটা নিয়ে খুব হাসাহাসি করলাম। এক একজন আলাদা মন্তব্য করলাম ,লোকটা বাড়িতে গিয়ে বউকে কিভাবে মাছের কথা বলবে সেই সম্পর্কে। নিষাদ বলল সে বলবে,'নেও বউ মাছ ধইরা আনছি। তাড়াতাড়ি কোড তিনডা বইল মাছ। রাতুল বলল, 'বাড়িওয়ালি বাইত আছেন, মাছ নিয়া আছি কোডা নাইগবো কনে গেলেন। আমি বললাম এরকম,'কিরে বউ কনে গেলু আইজক্যা মাছ ধরছি ,ভাল মাছ। বড় ফাইছ্যা আকপু। কাচাঁ মরিচ দিয়া আন্দিস। আমার কেন যেন মনে হল লোকটা তার বউকে তুই সম্বোধন করে।

আমাদের বাংলা ভাষায় এই একটা সুবিধা রয়েছে। তিনভাবে সম্বোধন করা যায়। সম্মানের সাথে, আন্তরিকতার সাথে এবং তুচ্ছতার সাথে। শেষের টা সবসময় তুচ্ছতাচ্ছিল্য বুঝায় না অনেক সময় অতি আন্তরিকতা বুঝায়। ইংরেজী ভাষায় এই সুবিধা নেই। আবার জাপানি ভাষায় তুচ্ছতা ও সম্মানের ভিত্তিতে আরও দুটি পদ্ধতি আছে।

একটা আশ্চর্য ব্যাপার তখন ঘটেছিল। কিভাবে যেন নিষাদের ইনট্যুয়েশন ক্ষমতা বেড়ে গেল। নিষাদ ঠিক যা বলছিল লোকটা ঠিক তাই করছিল পরে। নিষাদ একবার বলল লোকটা সুতরাং গুটিয়ে ফেলবে। লোকটা তাই করল। যদিও সবটাই কাকতালীয় কিন্তু ইনট্যুয়েশন বলতে ভাল লাগে। আসলে সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছিল তাই হয়তো লোকটা বড়শি গোটাচ্ছিল।

এমনই ভাবে নিষাদ একটার পর একটা বলে যাচ্ছিল আর লোকটা তাই করে যাচ্ছিল। যেমন,নিষাদ বলল লোকটা এবার তার শীতের জামা গায়ে দেবে,লোকটা তাই করল। আবার নিষাদ বলল এবার লোকটা তার বসার জন্য যে কাগজ আছে সেটা ধোবে, লোকটা তাই করল। এভাবেই চলছিল। একপর্যায়ে নিষাদ বলল লোকটা হাত না ধুয়েই চলে যাবে। কিন্তু নিষাদের এবারের ভবিষ্যদ্বানীকে মিথ্যা প্রমানিত করে লোকটা একটা গামছার ভেতর থেকে সাবান বের করে হাত ধোয়া শুরু করল। আর যা হোক লোকটা অন্তত নিজের হাতের ব্যাপারে যত্নশীল।

এইবার আমি নিষাদকে ধাক্কা দিয়ে চেঁচিয়ে উঠলাম,'এইবার তুমি পারনি। তখনি লোকটা উপরের দিক তাকাল এবং বুঝতে পারল যে আমরা তাকে লক্ষ্য করছি। তারপরও আমাদের মজা করার কোন বিঘ্ন ঘটলোনা। আমরা লোকটার আচার আচরণ নিয়ে কাল্পনিক উক্তি করে মজা করতে থাকলাম।

লোকটা অনেকক্ষন ধরে ভালভাবে সাবান দিয়ে হাত ধুলো। টোপ ফেলার জন্য কেঁচো ধরতে হয়। তাই লোকটা হাত ধোয়ার প্রতি এত যত্নবান। হাত ধোয়া শেষে সে তার দাড়ি ধোয়া শুরু করল। এবার নিষাদ একটা মন্তব্য করল,'এই,এই লোকটা এবার দাড়ি স্পাইক করবে। আজকাল লেটেস্ট ফ্যাশন হিসেবে ছেলেরা তাদের চুল মুরগির লেজের মত স্পাইক করে।

দাড়ি স্পাইক করার কথা শুনে আমার একটা কথা মনে পড়ে গেল। আমি নিষাদকে বললাম, 'বলত নিষাদ দাড়ি স্পাইক করা কোথাই দেখেছ? নিষাদকে উত্তর দেওয়ার সুযোগ না দিয়েই আমি বললাম, 'বাংলা সিনেমার মাঝে, রাজা বাদশাহ দের সিনেমায় উজির -নাজিরদের দাড়ি থাকে স্পাইক করা চৌক। তারপরই দেখলাম লোকটা পাড়ে উঠে চলে যাচ্ছে। নিষাদ বলল চল মাছ দেখি। আমরা সবাই এগিয়ে গেলাম। নিষাদ জিজ্ঞেস করল,চাচা ' কয়টা ধরলেন আজ? -বাবা আইজক্যা আল্লাহ মাপায় নায়। একট ধরছিলাম তা ছুইট্যা গেসে। এই বলে লোকটা সামনের রাস্তা ধরে হাটা শুরু করল।

আমরা তার দিকে বিষন্ন দৃষ্টি নিয়ে চেয়ে থাকলাম। তার হাতে একটা টর্চ লাইট। হয়তো তার বাড়ি অনেক দুরে। এখানে মাছ ভাল পাওয়া যায় বলে এসেছিল। কিন্তু সারাটা বিকেল নষ্ট করে সে কোন মাছ পেলনা। তাকে নিয়ে অযথাই আমরা মজা করেছি এটা ভেবে সত্যিকার অর্থেই সে মাছ না পাওয়াই যে কষ্ট পেয়েছে আমরা ঠিক ততটুকুই কষ্ট পেলাম। অনাবিল আনন্দের সাথে গাঢ় বিষাদ যুক্ত হয়ে এক অপার্থিব অনুভুতির সৃষ্টি করল আমাদের মনে। মনের ভিতর অপার্থিব অনুভুতি নিয়ে বিষন্ন নয়নে আমরা লোকটার যাত্রাপথের দিক তাকিয়ে থাকলাম।

ভোট: 
Average: 9.3 (4 votes)