কাসেমের ভাগ্য

ভাগ্য নিয়ে সব সময়ই আফসোসের সীমা ছিল না কাসেমের।সব সময়ই মনে হতো ভাগ্যের কারনেই সে বারবার চিপায় পড়ে।তবে আজকাল কাসেম ভাগ্য নিয়ে মেলা খুশি।ভাগ্যের কারনেই বালা যায় সে নুতুন এতো ভালো চাকরি পেয়েছে।কাসেমের নুতুন স্যার পিয়াস খন্দকার টাকাওয়ালা মানুষ তার তিনটা গাড়ি।সেই তিন গাড়ীর একটার ড্রাইভার কাসেম।বেশির ভাগ সময়ই কাসেমের ডিউটি থাকে না,শুয়ে বসে দিন কাটায়।তবে শুয়ে বসে দিন কাটানোর চেয়ে কাসেম আজকাল ডিউটি করতে বেশি আগ্রহী।এতো আগ্রহ করার কারন পিয়াস খন্দকারের মেয়ে সিলভিয়া খন্দকার।যাকে সবাই সিলভি বলে ডাকে।কাসেম সারাজীবন শুনে এসেছে সব থেকে সুন্দর হল পরীরা।সিলভি কে দেখার পর কাসেমের মনে হল এই তথ্য সঠিক না।এই মেয়ের থেকে সুন্দরী পৃথিবী কেন কোনো খানেই নেই।কি যে সুন্দর গায়ের রং,চুল গুলা মনে হয় রেশমি সুতা,এতো ঝরঝরা আর চকচকে।যে দিন সিলভি মেডামের ডিউটি থাকে কাসেম সব থেকে ভালো আর সুন্দর শার্টটা ইন করে পরে।যতোটা সম্ভব শুদ্ধ করে কথা বলার চেষ্টা করে।সিলভি মেডাম যখন বলে কাসেম ভাই চলেন,তখন কাসেমের মনে হয় বুকের ভিতর থাইকা কইলজাটা ফাল দিয়া বাইর হইয়া যাইবো।দুঃখের বিষয় কাসেম এই খুশির কথা কারো সাথে বলতে পারে না।সিলভি মেডাম ও কাসেম কে পছন্দ করে বলে কাসেমের মনে হয়।পছন্দ না করলে কি আর আরও দুইটা ড্রাইভার থাকতে মেডাম বেশির ভাগ সময় তার গাড়িতে বাইরে যায়?কাসেমের খুশি আসমান সমান হয় দিন কাসেম শুনে মেডাম ঈদের পরের দিন কক্সবাজার যাবে।কাসেম তৎখনাত এইবার ঈদে বাড়ি না যাবার সিদ্ধান্ত নেয়।অন্য দুই ড্রাইভার এর একজন হারুন আর একজন নুরওনবী।হারুন আগে থেকেই বলে ঈদে ছুটি নিয়ে রেখেছে আর নুরওনবী স্যার এর খাস ড্রাইভার।স্যার নুরওনবীকে ছাড়া কোথাও যায় না।মেডাম গাড়িতে করে কক্সবাজার গেলে কাসেম ছাড়া উপায় নাই।কাসেম মনে মনে বারবার আল্লহার নাম নেয় আর ঈদের দিন গুনতে থাকে।

কাসেমের খুশিতে হুসনেহেনা ছাই দিতে চায়।হুসনেহেনা কাসেমের খারাপ ভাগ্যের ফল আর কিছুনা।কাসেম নিজের চোক্ষে দেখছে কত্ত অশিক্ষিত ছেলে শিক্ষিত মেয়ে বিয়ে করে।কাসেম ক্লাস সেভেন পাস তবুও কাসেমের কপালে জুটলো মূর্খ অশিখিত বউ।হুসনেহেনা গ্রামে থাকে কাসেমের বাবা মায়ের সাথে।দুই দিন পরপরই ফোন দিয়ে জিজ্ঞাসা করবে কবে আইবেন?হুসনেহেনারে ফোন কিনে দেয়াই ভুল হয়েছে।প্রথম রোজা থেকেই হুসনেহেনা বাড়ীত কবে আইবেন,বাড়ীত কবে আইবেন শুরু করে দিয়েছে।বউ অশিক্ষিত হওয়াতে কিছু ফায়দা আছে।যেকোনো কিছু সহজে বুঝান যায় আর হুসনেহেনাকে বুঝান তো কাসেমের কাছে ওয়ান টু এর ব্যাপার।কাসেম হুসনেহেনাকে বুঝিয়ে দিয়েছে নতুন চাকরী তাই এখন ছুটি নেয়া যাবে না।তাছাড়া কাসেম এই কয়দিনে স্যার এর খাস লোক হয়ে গেছে স্যার এখন তাকে ছাড়া অন্য ড্রাইভারের উপরে ভরশা পায় না।এখন ছুটি নিলে চাকরী চলে যাবার সম্ভবনা আছে।কাসেমের ঈদে বাড়ি না যাওয়ার কথা শুনে হুসনেহেনা ঢুকরে কন্নার আয়োজন করেছিল কিন্তু কাসেম অশিক্ষিত বউকে যখন বলল কান্নাকাটি করে কি সে আল্লহকে কাসেমের উপর নাখোশ করতে চায়?কাসেম ড্রাইভার মানুষ রাস্তায় গাড়ি চালায় কখন কি হয়?হুসনেহেনা সাথে সাথেই কান্না গিলে ফেললো এবং সেই দিনের পর বাড়ি যাওয়ার কথা একবারও মুখে তুলে নাই।

এই ঈদে কাসেম অন্য সব বার থেকে বেশি দাম দিয়ে একটা শার্ট কিনলো।হাতে কিছু টাকাও রাখলো।সিলভি মেডাম অনেক সময় গাড়ি থামিয়ে এটা ওটা খেতে চায়।মেডামের কাছে থেকে সব সময় টাকা নিতে ইচ্ছা করে না।এইসবের জন্য এইবার বাড়ীতে টাকা কম দিতে হয়েছে।ঈদের পরের দিন সিলভি মেডাম যখন কক্সবাজার জাওয়রা জন্য কাসেমের গাড়ীতে উঠলো কাসেম তখনও নিজের ভাগ্যকে বিশ্বাস করতে পারছিলো না।সারাজীবনে নিজের দূর ভাগ্য নিয়ে যতো কষ্ট ছিল মনে সব এক নিমেষে দূর হয়ে গেলো।

সিলভি মেডাম গাড়ীতে বসার পরই কাসেমের মনে হলো গাড়ীতে বেহেস্তি বাসনা করছে।এতো সুন্দর বাসনা যে কাসেমের মনে হল মাথা ঘুরিয়ে পরে যাবে।নিশ্চয় সিলভি মেডাম অনেক দামী কোনো সেন্ট দিয়েছে আজকে।গুলশান-১ এর দিকে আসতেই একটা জায়গাতে সিলভি মেডাম গাড়ী থামাতে বলল,সেখানে আগে থেকেই ২ টা মেয়ে আর ৩ টা ছেলে দাড়ায়ে ছিল।গাড়ী থামানোর পর তারা গাড়ীতে উঠে বসলো।কাসেম এই বার নিজের ভাগ্য নিয়ে দ্বিধায় পরে গেলো।ভোর ৫ টার দিকে কাসেমের ভাগ্য নিয়ে দ্বিধা কেটে গেলো যখন কাসেমের গাড়ী ছিনতাইকারীরা ধরলো এবং সেই ছিনতাইয়ের অভিযোগে কাসেমকে থানায় যেতে হল।অন্য সবার কথা বাদ কিন্তু সিলভি মেডাম ও কাসেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে,বলেছে এই ছিনতাইয়ে কাসেমের ও হাত আছে।পুলিশ ধরে আগেই একটা ধোলাই দিয়েছে।বারবার জিজ্ঞাসা করেছে তার সাথে আর কে কে আছে কিন্তু কাসেম কি করে বলবে?মারতে মারতে পুলিশগুলা মনে হয় কালান্ত হয়ে গেলো তাই বিরতি নিয়েছে।ব্যথায় কোঁকড়াতে কোঁকড়াতে কাসেমের মনে হল বেহেস্তি বাসনা থেকে হুসনেহেনার শরীর থেকে ভেসে আসা পেঁয়াজ রসুনের বাসনাই ভালো।

ছবি কৃতজ্ঞতা ঃ রাসেল আহমেদ 

 

ভোট: 
Average: 5.5 (2 votes)

মন্তব্যসমূহ

করণিক আখতার এর ছবি

গতিময় এবং প্রাঞ্জল। দারুণ সুন্দর উপস্থাপনা। ধন্যবাদ হে লেখক, নিত্য শুভকামনা রইলো।